ডিজিটাল শিক্ষার চ্যালেঞ্জ: ৫টি ভুল মোটেও করবেন না, নাহলে বড় ক্ষতি!

webmaster

디지털 학습의 도전과제 - **Prompt:** A young university student, looking visibly tired and overwhelmed, sits at a desk in a d...

ডিজিটাল লার্নিং আজকাল আমাদের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে, তাই না? স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে নতুন কোনো দক্ষতা অর্জনের জন্য আমরা এখন ল্যাপটপ বা মোবাইলের স্ক্রিনের দিকেই বেশি তাকিয়ে থাকি। কিন্তু, এই নতুন শিক্ষাপদ্ধতি নিয়ে কি শুধু সুবিধাই আছে, নাকি কিছু অদৃশ্য চ্যালেঞ্জও আমাদের অপেক্ষায় আছে?

আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, যখন প্রথমবার অনলাইন ক্লাস শুরু হয়েছিল, তখন সবকিছু বেশ সহজ মনে হলেও সময়ের সাথে সাথে নানা সমস্যা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। যেমন ধরুন, ইন্টারনেট সংযোগের সমস্যা, ঘন্টার পর ঘন্টা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ক্লান্তি, অথবা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে না পারার এক অদ্ভুত শূন্যতা।প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে ডিজিটাল শিক্ষার পদ্ধতিও প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে, কিন্তু সেই পরিবর্তনের সাথে আমরা কতটা মানিয়ে নিতে পারছি?

অনেক সময় মনে হয়, আমরা যেন এক বিশাল তথ্যসাগরে ডুবে যাচ্ছি, যেখানে সঠিক পথ খুঁজে পাওয়া কঠিন। আবার অনেকেই ভাবেন, ডিজিটাল শিক্ষা হয়তো কেবল তরুণ প্রজন্মের জন্য, কিন্তু এটা মোটেই ঠিক নয়। সব বয়সের মানুষের জন্যই এর মধ্যে যেমন সুযোগ আছে, তেমনই আছে কিছু বড় বাধা। এই সব সমস্যাগুলোর সমাধান না করলে, ডিজিটাল শিক্ষার আসল সুফল আমরা কখনই পুরোপুরি পাব না। চলুন, ডিজিটাল শিক্ষার এই চ্যালেঞ্জগুলো সম্পর্কে আরও বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।

স্ক্রিনের সামনে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার ক্লান্তি, চোখের সমস্যা

디지털 학습의 도전과제 - **Prompt:** A young university student, looking visibly tired and overwhelmed, sits at a desk in a d...
দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটার বা মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে যে চোখের ওপর কতটা চাপ পড়ে, সেটা হয়তো আমরা সবাই কমবেশি অনুভব করি। অনলাইন ক্লাসের শুরুতে যখন সবকিছু নতুন ছিল, তখন হয়তো ব্যাপারটা অতটা খারাপ লাগতো না। কিন্তু যখন দিনে ৮-১০ ঘণ্টা স্ক্রিনের সামনে কাটাতে হয়, তখন চোখ ব্যথা, মাথা ধরা, এমনকি দৃষ্টিশক্তির ওপরও খারাপ প্রভাব পড়তে শুরু করে। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, প্রথমদিকে ক্লাসের ফাঁকে খানিকটা বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ পেতাম। কিন্তু এখন, একের পর এক ওয়েবিনার আর অনলাইন সেশনের কারণে সেই সুযোগটাও কমে গেছে। বিশেষ করে ছোট বাচ্চাদের জন্য এটা আরও বেশি ক্ষতিকর। ওদের চোখের বিকাশের সময়টায় এমন টানা স্ক্রিন টাইম সত্যিই চিন্তার বিষয়। আজকাল বাচ্চারা শুধু পড়াশোনার জন্যই নয়, বিনোদনের জন্যও স্ক্রিনের দিকেই তাকিয়ে থাকে, যা দীর্ঘমেয়াদে তাদের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। আমি দেখেছি, অনেক সময় পড়া শেষ হওয়ার পরেও অনেকেই অনলাইন গেম বা সোশ্যাল মিডিয়ায় মগ্ন থাকে, যা চোখের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে তোলে। একটা ছোট্ট ব্রেক নিলেও সেটা যেন যথেষ্ট মনে হয় না।

চোখের স্বাস্থ্যের অবনতি

সকালে ঘুম থেকে উঠে ক্লাস শুরু হয়, চলে রাত পর্যন্ত। এই যে একটানা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা, এটা আমাদের চোখের লেন্সের ওপর মারাত্মক চাপ ফেলে। চোখের শুষ্কতা, জ্বালা করা, ঝাপসা দেখা—এগুলো এখন যেন নিত্যদিনের সঙ্গী। আমি ব্যক্তিগতভাবে অনুভব করেছি, দিনে শেষে চোখের ক্লান্তি এতটাই বেশি থাকে যে, বই পড়া বা অন্য কোনো কাজে মন বসানো কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক শিক্ষার্থীকে চশমা পরতে দেখেছি যারা আগে কখনো চশমা পরতো না। এটা খুবই উদ্বেগজনক। আমার মনে হয়, মাঝে মাঝে চোখকে বিশ্রাম দেওয়া, ডিজিটাল স্ক্রিন থেকে অন্তত ২০-৩০ মিনিটের জন্য দূরে থাকাটা খুবই জরুরি। বিশেষ করে যারা প্রফেশনাল কোর্স করছেন, তাদের তো প্রায় সারাদিনই স্ক্রিনের সামনে বসে থাকতে হয়।

শারীরিক ক্লান্তি ও ঘুমের সমস্যা

শুধু চোখ নয়, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার কারণে ঘাড়, পিঠ ও কোমরে ব্যথাও এখন সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শরীরকে সচল রাখার সুযোগ কমে যাওয়ায় মেটাবলিজমও কমে আসে। রাত জাগার অভ্যাস গড়ে ওঠে অনেকের, কারণ অনলাইন ক্লাস শেষ হওয়ার পরেও স্ক্রিনের আকর্ষণ কাটিয়ে উঠতে পারে না। ঘুমের অনিয়ম শুরু হয়, যা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলে। আমি দেখেছি, অনেক শিক্ষার্থী ঠিকমতো ঘুমাতে না পারার কারণে পরের দিন ক্লাসে মনোযোগ দিতে পারে না। এর ফলে পড়াশোনার মানও খারাপ হয়। পর্যাপ্ত ঘুম এবং শারীরিক সক্রিয়তা ছাড়া সুস্থ থাকা প্রায় অসম্ভব। তাই ডিজিটাল শিক্ষার ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলো নিয়ে আরও সচেতন হওয়া দরকার।

ইন্টারনেট সংযোগের সমস্যা এবং ডিজিটাল বৈষম্যের দেয়াল

Advertisement

ডিজিটাল লার্নিংয়ের ক্ষেত্রে ইন্টারনেট সংযোগের গুরুত্ব অপরিহার্য। কিন্তু আমাদের দেশে, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকাগুলোতে আজও দ্রুতগতির এবং স্থিতিশীল ইন্টারনেটের সুবিধা অপ্রতুল। আমার নিজের এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে যে, গুরুত্বপূর্ণ একটি অনলাইন ক্লাসের মাঝখানে হঠাৎ করে ইন্টারনেট চলে গেল। সে সময় যে কতটা অসহায় লাগছিল, তা বলে বোঝানো যাবে না। এতে কেবল ক্লাসের মাঝখানে ছন্দপতনই হয় না, অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা বা অ্যাসাইনমেন্টের অংশও বাদ পড়ে যায়। এই সমস্যাটা শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত নয়, এটি এক ধরনের সামাজিক বৈষম্যও তৈরি করে। শহরে যারা থাকেন, তাদের জন্য হয়তো দ্রুতগতির ইন্টারনেট পাওয়া সহজ, কিন্তু গ্রামের দরিদ্র শিক্ষার্থীরা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়। এর ফলে তারা আধুনিক শিক্ষার সুযোগ থেকে পিছিয়ে পড়ে।

দুর্বল অবকাঠামো ও গ্রামের শিক্ষার্থীদের কষ্ট

আমাদের দেশে এখনো অনেক প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেটের অবকাঠামো খুব দুর্বল। মোবাইল নেটওয়ার্কও সব জায়গায় সমানভাবে শক্তিশালী নয়। এর ফলে গ্রামের শিক্ষার্থীরা প্রায়শই অনলাইন ক্লাস বা পরীক্ষা দিতে সমস্যায় পড়ে। এমনও দেখেছি, অনেকে ভালো নেটওয়ার্কের জন্য বাড়ির বাইরে গিয়ে বা অন্য কারো ওয়াইফাই ব্যবহার করে ক্লাস করছে। এই যে প্রতিনিয়ত ইন্টারনেটের সমস্যা নিয়ে লড়াই করা, এটা শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপের অন্যতম কারণ। যখন কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রেজেন্টেশন চলছে আর তখনই ইন্টারনেট চলে যায়, তখন তারা কতটা হতাশ হয়, তা সহজেই অনুমেয়। এই ডিজিটাল বৈষম্যের কারণে অনেক প্রতিভাবান শিক্ষার্থীও তাদের যোগ্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

ডিজিটাল ডিভাইস ও উচ্চ খরচের বোঝা

ভালো মানের ডিজিটাল ডিভাইস, যেমন ল্যাপটপ বা স্মার্টফোন, অনলাইন শিক্ষার জন্য অত্যাবশ্যক। কিন্তু অনেক পরিবারের পক্ষেই এই ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব হয় না। এছাড়া, নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেটের জন্য যে মাসিক খরচ হয়, সেটাও অনেকের কাছেই বেশ বড় একটা বোঝা। আমি দেখেছি, অনেকে পুরোনো বা কম দামি ডিভাইস ব্যবহার করে কোনোমতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু তাতে প্রায়শই নানা প্রযুক্তিগত সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। ডিভাইস যদি স্লো হয় বা বারবার হ্যাং করে, তখন অনলাইন ক্লাসে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এই ডিভাইস এবং ইন্টারনেট খরচের কারণে অনেক শিক্ষার্থী ডিজিটাল শিক্ষা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়, যা সত্যিই দুঃখজনক।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে ব্যক্তিগত যোগাযোগের অভাব

আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন ক্লাসে স্যারেরা পড়া বুঝিয়ে দিতেন আর কোনো প্রশ্ন থাকলে সরাসরি জিজ্ঞেস করা যেত। এই যে মুখোমুখি বসে আলোচনা করার সুযোগ, সেটা ডিজিটাল শিক্ষায় অনেকটাই অনুপস্থিত। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রশ্ন করার সুযোগ থাকলেও, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে ওঠে না তেমনভাবে। শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থা বা সমস্যাগুলো ঠিকমতো বুঝতে পারেন না, কারণ তাদের সাথে সরাসরি কোনো ইন্টার‌্যাকশন হয় না। এর ফলে শেখার প্রক্রিয়াটা অনেকটাই যান্ত্রিক মনে হয়, যেখানে মানুষের আবেগ বা অনুভূতির কোনো স্থান নেই। একটা ইমোশনাল কানেকশন ছাড়া পড়াশোনা অনেক সময় একঘেয়ে হয়ে ওঠে।

শিক্ষকের স্নেহ ও বন্ধুর মতো পরামর্শের অভাব

একজন ভালো শিক্ষক কেবল পাঠ্যপুস্তকই শেখান না, তিনি শিক্ষার্থীদের পথপ্রদর্শকও হন। ক্লাসে শিক্ষকদের সাথে আমাদের ব্যক্তিগত নানা বিষয় নিয়ে কথা বলার সুযোগ হতো, তাদের কাছ থেকে জীবনের মূল্যবান পরামর্শ পেতাম। ডিজিটাল ক্লাসে এই দিকটা খুব মিস করি। যখন কোনো শিক্ষার্থী পড়াশোনা নিয়ে মানসিক চাপে থাকে বা ব্যক্তিগত কোনো সমস্যায় ভোগে, তখন অনলাইনে তার জন্য পর্যাপ্ত সহায়তা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। একজন শিক্ষকের স্নেহপূর্ণ সান্নিধ্য অনেক সময় শিক্ষার্থীর মনোবল বাড়িয়ে দেয়, যা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পুরোপুরি অনুপস্থিত। আমি অনেক শিক্ষার্থীকে দেখেছি যারা শিক্ষকদের সাথে সরাসরি কথা বলতে না পেরে নিজেদের সমস্যাগুলো প্রকাশ করতে পারে না।

সহপাঠীদের সাথে যোগাযোগের জটিলতা

স্কুল-কলেজে আমরা কেবল শিক্ষকের কাছ থেকেই শিখি না, সহপাঠীদের থেকেও অনেক কিছু শেখার সুযোগ থাকে। গ্রুপ স্টাডি, প্রজেক্ট ওয়ার্ক বা ক্লাসের বাইরে আড্ডা দিতে গিয়েও অনেক কিছু জানা যায়। ডিজিটাল লার্নিংয়ে এই সহপাঠীদের সাথে স্বতঃস্ফূর্ত যোগাযোগের সুযোগ কমে যায়। যদিও অনলাইন গ্রুপ বা ফোরাম আছে, কিন্তু সেখানে ব্যক্তিগত কথোপকথন বা বিতর্কের সুযোগ খুবই কম। আমি দেখেছি, অনেক সময় দলগত কাজ অনলাইনে করতে গেলে নানা ধরনের ভুল বোঝাবুঝি হয়, কারণ সরাসরি কথা বলার সুযোগ থাকে না। এই পারস্পরিক যোগাযোগের অভাব শিক্ষার্থীদের সামাজিক দক্ষতা বিকাশেও বাধা সৃষ্টি করে।

নিজেকে অনুপ্রাণিত রাখা এবং মনোযোগ ধরে রাখার লড়াই

আমার মনে আছে, যখন প্রথম অনলাইনে ক্লাস শুরু হয়েছিল, তখন সবকিছুই বেশ নতুন আর উত্তেজনাপূর্ণ লাগছিল। কিন্তু কয়েকদিন যেতে না যেতেই দেখা গেল, নিজেকে নিয়মিত পড়াশোনার জন্য অনুপ্রাণিত রাখাটা কতটা কঠিন। ঘরে বসে পড়াশোনা করলে অনেক সময় মনে হয়, কেউ যেন আমাকে দেখছে না বা আমার ওপর কোনো চাপ নেই। এই মানসিকতা থেকেই অলসতা আসে। আর মনোযোগ ধরে রাখা তো আরও কঠিন। চারপাশে এতরকম ডিজিটাল ডিস্ট্রাকশন থাকে যে, সামান্য একটি নোটিফিকেশন এলেই পড়া থেকে মন সরে যায়। আমি ব্যক্তিগতভাবে অনুভব করেছি, ক্লাসের মাঝখানেও সোশ্যাল মিডিয়া বা অন্য কোনো অ্যাপে ঢুঁ মেরে আসাটা খুব সহজ হয়ে যায়, যা ফিজিক্যাল ক্লাসে অসম্ভব।

সরাসরি পর্যবেক্ষণের অভাব ও দায়বদ্ধতার ঘাটতি

ফিজিক্যাল ক্লাসে শিক্ষক সরাসরি শিক্ষার্থীদের পর্যবেক্ষণ করেন, কে মনোযোগ দিচ্ছে আর কে দিচ্ছে না—এটা সহজেই বোঝা যায়। কিন্তু অনলাইন ক্লাসে এই প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণের সুযোগ কম। এর ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক ধরনের দায়বদ্ধতার অভাব দেখা দিতে পারে। অনেকে ক্যামেরা বন্ধ করে বা মাইক্রোফোন মিউট করে অন্য কাজ করতে শুরু করে, যা শেখার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে। আমি দেখেছি, অনেকে অনলাইন ক্লাস চলাকালীন বিভিন্ন গেম খেলছে বা সিনেমা দেখছে। যখন কোনো রকম সরাসরি চাপ বা সামাজিক নিয়ন্ত্রণ থাকে না, তখন নিজেকে নিয়মানুবর্তী রাখাটা বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায়।

বহুবিধ ডিস্ট্রাকশন এবং মনোনিবেশের সমস্যা

ঘরে বসে পড়াশোনা করার সময় বহুবিধ ডিস্ট্রাকশন আমাদের মনোযোগ নষ্ট করে। পরিবারের সদস্যদের নানা কাজ, ঘরের কোলাহল, মোবাইলের নোটিফিকেশন—সবকিছুই পড়াশোনা থেকে মন সরিয়ে নেয়। এছাড়া, ইন্টারনেটে এতরকম কনটেন্ট আছে যে, একবার কোনো একটিতে ঢুকলে সময় কোথায় চলে যায় তা বোঝা যায় না। আমি অনেকবার দেখেছি, কোনো একটি বিষয় নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে মূল টপিক থেকে সরে অন্য কোনো বিষয়ে মগ্ন হয়ে গেছি। এই যে মনোযোগের অভাব, এটা দীর্ঘমেয়াদে আমাদের শেখার ক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। নিজের মনোযোগকে এক জায়গায় ধরে রাখাটা ডিজিটাল শিক্ষার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

বিষয় সুবিধা অসুবিধা
সময় ও স্থান নিজের সুবিধামতো সময়ে, যে কোনো জায়গা থেকে শেখার সুযোগ। দিনের নির্দিষ্ট রুটিন ভেঙে যেতে পারে, অলসতা বাড়তে পারে।
তথ্যের সহজলভ্যতা অজস্র রিসোর্স ও অনলাইন লাইব্রেরির সুবিধা। তথ্যের সাগরে সঠিক তথ্য খুঁজে পেতে সমস্যা।
পারস্পরিক যোগাযোগ অনলাইন ফোরাম ও গ্রুপে মত বিনিময়ের সুযোগ। সরাসরি ব্যক্তিগত যোগাযোগের অভাব, ভুল বোঝাবুঝি।
প্রযুক্তি ব্যবহার নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা ও দক্ষতা বৃদ্ধি। প্রযুক্তিগত সমস্যা, ডিভাইস ও ইন্টারনেট খরচ।
Advertisement

ব্যবহারিক শিক্ষার সীমাবদ্ধতা এবং বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা

디지털 학습의 도전과제 - **Prompt:** A diligent male teenager, approximately 16 years old, stands outside a modest rural home...
কিছু কিছু পড়াশোনা আছে যা কেবল বই পড়ে বা অনলাইন ভিডিও দেখে শেখা যায় না, তার জন্য হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। যেমন ধরুন, বিজ্ঞানাগারের কোনো পরীক্ষা, ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের কাজ, বা চিকিৎসা ক্ষেত্রে রোগীর সাথে সরাসরি ইন্টার‌্যাকশন। ডিজিটাল লার্নিংয়ে এই ব্যবহারিক শিক্ষার সুযোগ প্রায় নেই বললেই চলে। আমি এমন অনেক শিক্ষার্থীকে দেখেছি, যারা অনলাইনে তত্ত্বীয় জ্ঞান অর্জন করলেও বাস্তব ক্ষেত্রে তা প্রয়োগ করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছে। একটা ভার্চুয়াল ল্যাব বা সিমুলেশন কখনোই আসল ল্যাবের অভিজ্ঞতা দিতে পারে না। এর ফলে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

হাতে-কলমে শেখার সুযোগের অভাব

ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা কারিগরি পেশার জন্য হাতে-কলমে শেখাটা অত্যন্ত জরুরি। একজন ডাক্তার অনলাইনে রোগের লক্ষণ চিনতে পারলেও, অপারেশন থিয়েটারে রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা ভিন্ন। একজন ইঞ্জিনিয়ার ডিজাইন সফটওয়্যারে কাজ করলেও, বাস্তবে একটি মেশিন ফিট করার অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ আলাদা। ডিজিটাল মাধ্যমে এই ধরনের অভিজ্ঞতা অর্জন করা কঠিন। আমি জানি, অনেক প্রযুক্তিগত প্রতিষ্ঠান অনলাইন ল্যাবের ব্যবস্থা করেছে, কিন্তু সেগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রায়শই প্রশ্ন ওঠে। বাস্তব বিশ্বের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করার জন্য যে ধরনের ব্যবহারিক জ্ঞান প্রয়োজন, তা ডিজিটাল শিক্ষা দিতে ব্যর্থ।

সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা বিকাশে বাধা

অনেক সময় আমাদের নতুন কিছু তৈরির অনুপ্রেরণা আসে যখন আমরা হাতে-কলমে কোনো কাজ করি, যখন বিভিন্ন উপকরণ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সুযোগ পাই। ডিজিটাল পরিবেশে এই সুযোগগুলো সীমিত। যেমন, আর্ট বা ডিজাইনের শিক্ষার্থীদের জন্য রং, তুলি, মাটির সাথে সরাসরি কাজ করার অভিজ্ঞতা তাদের সৃজনশীলতাকে বিকশিত করে। অনলাইনে এই ধরনের সৃজনশীল কাজ করতে গেলে একটা নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে থাকতে হয়, যা উদ্ভাবনী ক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। আমি দেখেছি, অনেক শিক্ষার্থী যারা খুব সৃজনশীল, তারা অনলাইনে নিজেদের সেরাটা দিতে পারে না, কারণ তাদের কাছে বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং উপকরণের অভাব থাকে।

প্রযুক্তির সাথে মানিয়ে চলার চ্যালেঞ্জ এবং নতুন দক্ষতা অর্জনের চাপ

Advertisement

ডিজিটাল শিক্ষা মানেই নতুন নতুন প্রযুক্তির সাথে পরিচয়, নতুন সফটওয়্যার ব্যবহার করা আর প্রতিনিয়ত নিজেকে আপডেট রাখা। আমার মনে আছে, প্রথমদিকে জুম, গুগল মিট বা বিভিন্ন লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (LMS) ব্যবহার করতে গিয়ে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল। যাদের প্রযুক্তি সম্পর্কে তেমন ধারণা নেই, তাদের জন্য এটা আরও বড় চ্যালেঞ্জ। কেবল শিক্ষার্থীরাই নয়, শিক্ষকদেরও এই নতুন সিস্টেমের সাথে মানিয়ে নিতে বেশ কষ্ট হয়। প্রযুক্তির এই দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে সবসময় নতুন কিছু শেখার একটা চাপ থাকে, যা অনেকের জন্যই মানসিক ক্লান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জনের সংগ্রাম

অনেক শিক্ষক আছেন যারা সারা জীবন ব্ল্যাকবোর্ড আর চক দিয়ে পড়িয়েছেন। হঠাৎ করে তাদের অনলাইন ক্লাসের জন্য পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশন বানানো, অনলাইন টুলস ব্যবহার করা বা ভার্চুয়াল অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি করার মতো দক্ষতা অর্জন করতে হয়। একইভাবে, অনেক শিক্ষার্থীও ল্যাপটপ বা ইন্টারনেট সম্পর্কে তেমন ধারণা রাখে না। তাদের জন্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় থাকাটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। আমি দেখেছি, অনেক শিক্ষক-শিক্ষার্থী এই প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাবে নিজেদের সেরাটা দিতে পারেন না, যা শিক্ষার গুণগত মানকে প্রভাবিত করে। নিরন্তর নতুন প্রযুক্তি শেখার এই চাপটা সত্যিই অনেক।

সফটওয়্যার ও প্ল্যাটফর্মের জটিলতা

অনলাইন শিক্ষার জন্য বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার ও প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হয়। এক প্রতিষ্ঠানে এক রকম, অন্য প্রতিষ্ঠানে অন্য রকম। এই প্ল্যাটফর্মগুলোর ইন্টারফেস ও ফাংশনালিটি প্রায়শই জটিল হয়, যা ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন করে শেখার চাপ তৈরি করে। যেমন, কোনো একটি অ্যাসাইনমেন্ট সাবমিট করার জন্য একটি নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্মের নিয়মকানুন বুঝতে গিয়ে অনেক সময় ব্যয় হয়। যদি কোনো প্রযুক্তিগত সমস্যা হয়, তখন তা সমাধান করতেও বেগ পেতে হয়। এই ধরনের জটিলতা অনেক সময় শিক্ষার্থীদেরকে হতাশ করে তোলে এবং তাদের শেখার আগ্রহ কমিয়ে দেয়। প্রযুক্তি যেন সহজ না হয়ে অনেক সময় আরও বেশি জটিল মনে হয়।

মানসিক চাপ ও একাকীত্বের অনুভূতি

দীর্ঘদিন ধরে ঘরে বসে ক্লাস করা আর বন্ধুদের সাথে দেখা না করতে পারাটা আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর কতটা খারাপ প্রভাব ফেলে, তা আমি নিজের চোখে দেখেছি। মানুষের সামাজিক প্রাণী, আর আমরা একে অপরের সাথে মেলামেশা করে আনন্দ পাই, মানসিক শান্তি পাই। কিন্তু ডিজিটাল শিক্ষার কারণে সেই সুযোগটা কমে গেছে। এর ফলে অনেকে একাকীত্বে ভোগে, মানসিক চাপে ভোগে এবং হতাশ হয়ে পড়ে। ক্লাস শেষ হওয়ার পরেও কারো সাথে মনের কথা বলার সুযোগ থাকে না, যা মনকে আরও ভারাক্রান্ত করে তোলে।

সামাজিক মেলামেশার অভাব ও বিচ্ছিন্নতা

স্কুল-কলেজ কেবল পড়াশোনার জায়গা নয়, এটি সামাজিক মেলামেশারও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। বন্ধুদের সাথে আড্ডা, খেলাধুলা, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ—এগুলো শিক্ষার্থীদের সামাজিক দক্ষতা বিকাশে সাহায্য করে। অনলাইন শিক্ষার কারণে এই সব সুযোগ প্রায় শূন্য। আমি দেখেছি, অনেক শিক্ষার্থী সামাজিক মেলামেশার অভাবে নিজেদের গুটিয়ে নেয়, তাদের মধ্যে এক ধরনের বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি তৈরি হয়। এই বিচ্ছিন্নতা দীর্ঘমেয়াদে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং তাদের মধ্যে হতাশার জন্ম দেয়। মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্ক তৈরি না হলে জীবনের অনেক আনন্দই ফিকে হয়ে যায়।

মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ও হতাশা

একটানা স্ক্রিনের সামনে থাকা, বাইরের জগতের সাথে কম যোগাযোগ এবং সামাজিক মেলামেশার অভাব—এগুলো মিলে মানসিক চাপ বাড়িয়ে তোলে। অনেকের মধ্যে উদ্বিগ্নতা, হতাশা, এমনকি বিষণ্নতার লক্ষণও দেখা যায়। আমি দেখেছি, অনেক শিক্ষার্থী তাদের এই মানসিক চাপ নিয়ে কারো সাথে কথা বলতে পারে না, কারণ তারা হয়তো বোঝে না যে এটা একটি গুরুতর সমস্যা। শিক্ষাব্যবস্থায় এখন মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত, কারণ সুস্থ মন ছাড়া ভালো পড়াশোনা সম্ভব নয়। যারা ডিজিটাল শিক্ষায় অংশ নিচ্ছেন, তাদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করাটাও জরুরি।

লেখা শেষ করছি

ডিজিটাল শিক্ষা আমাদের জীবনে অনেক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু এর পাশাপাশি যে চ্যালেঞ্জগুলো আমাদের মোকাবিলা করতে হচ্ছে, সেগুলো নিয়েও আমাদের সচেতন থাকা দরকার। চোখের ওপর চাপ, মানসিক ক্লান্তি, ইন্টারনেট সমস্যা থেকে শুরু করে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা—এই সবকিছুই শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশে বাধা দিতে পারে। তাই প্রযুক্তিকে গ্রহণ করার পাশাপাশি আমাদের নিজেদের এবং আমাদের সন্তানদের সুস্থতার দিকটাও খেয়াল রাখতে হবে। শুধুমাত্র পড়াশোনা নয়, সুস্থ জীবনযাপনও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আমি দেখেছি, সুস্থ মন ছাড়া কোনো কিছুই ঠিকমতো হয় না।

Advertisement

কয়েকটি দরকারি তথ্য

১. স্ক্রিন টাইম ম্যানেজমেন্ট: আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, প্রতি ২০ মিনিট পর ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে তাকানোর যে ‘২০-২০-২০ নিয়ম’ আছে, তা চোখের ওপর চাপ কমাতে অত্যন্ত কার্যকর। এটি শুধু চোখের ক্লান্তিই কমায় না, বরং মনোযোগ ধরে রাখতেও সাহায্য করে।

২. শারীরিক ব্যায়াম ও বিরতি: আমি দেখেছি, যারা দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে থাকেন, তাদের ঘাড়ে ও পিঠে ব্যথা হওয়াটা খুব সাধারণ ব্যাপার। তাই প্রতি ১-২ ঘণ্টা পর পর উঠে দাঁড়ানো, হাত-পা টানানো এবং কিছু হালকা ব্যায়াম করাটা জরুরি। এতে কেবল শরীরের রক্ত সঞ্চালনই ভালো থাকে না, বরং সতেজ অনুভব করা যায়।

৩. উন্নত ইন্টারনেট ও ডিভাইস: আমার মনে হয়, ভালো মানের ইন্টারনেট সংযোগ এবং একটি ergonomic সেটআপ—যেমন সঠিক উচ্চতার চেয়ার, টেবিল ও মনিটর—ডিজিটাল শিক্ষার জন্য অপরিহার্য। এটি শুধু কাজের সুবিধা দেয় না, বরং ঘাড় ও পিঠের ব্যথা কমাতেও সাহায্য করে।

৪. মানসিক সুস্থতা: আমি অনুভব করেছি যে, সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখাটা কতটা জরুরি। পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের সাথে কথা বলা, নিজের অনুভূতি শেয়ার করা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। প্রয়োজনে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে দ্বিধা করা উচিত নয়।

৫. ব্যবহারিক অভিজ্ঞতার গুরুত্ব: তত্ত্বীয় শিক্ষার পাশাপাশি হাতে-কলমে শেখার সুযোগ খোঁজাটা খুব দরকারি। অনলাইনে যা শিখেছেন, বাস্তব জীবনে তা প্রয়োগ করার সুযোগ তৈরি করুন। আমি দেখেছি, এতে জ্ঞান শুধু মজবুতই হয় না, বরং আত্মবিশ্বাসও বাড়ে। একটি ভার্চুয়াল ল্যাব কখনোই বাস্তব অভিজ্ঞতার বিকল্প হতে পারে না।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি

আমরা সবাই ডিজিটাল শিক্ষার সুবিধাগুলো ভোগ করছি, কিন্তু এর নেতিবাচক দিকগুলো নিয়েও আমাদের ভাবা উচিত। দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের সামনে থাকার কারণে চোখের স্বাস্থ্যের অবনতি, শারীরিক ক্লান্তি এবং ঘুমের সমস্যা এখন যেন নিত্যদিনের সঙ্গী। গ্রামের শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টারনেট সংযোগের দুর্বলতা এবং ভালো ডিজিটাল ডিভাইসের অভাব একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা ডিজিটাল বৈষম্য তৈরি করছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে ব্যক্তিগত যোগাযোগের অভাব শেখার প্রক্রিয়াকে যান্ত্রিক করে তুলছে এবং মানবিক স্পর্শ কমিয়ে দিচ্ছে। আমি দেখেছি, নিজেকে অনুপ্রাণিত রাখা এবং মনোযোগ ধরে রাখাটা কতটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে, বিশেষ করে যখন চারপাশে এত ডিজিটাল ডিস্ট্রাকশন থাকে। ব্যবহারিক শিক্ষার সীমাবদ্ধতা এবং প্রতিনিয়ত নতুন প্রযুক্তির সাথে মানিয়ে চলার চাপও শিক্ষার্থীদের ওপর প্রভাব ফেলছে। সবশেষে, সামাজিক মেলামেশার অভাবের কারণে মানসিক চাপ এবং একাকীত্বের অনুভূতি বেড়ে যাচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতার জন্য বড় হুমকি। এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে একটি ভারসাম্যপূর্ণ এবং সুস্থ ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা আমাদের সবার জন্য জরুরি।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) 📖

প্র: ডিজিটাল শিক্ষার কারণে আমাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে?

উ: সত্যি বলতে, এই প্রশ্নটা আজকাল আমার কাছে অনেকেই জানতে চাইছেন। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, যখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা ল্যাপটপ বা মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়, তখন চোখের উপর ভীষণ চাপ পড়ে। মনে হয় যেন চোখ জ্বালা করছে, আর মাথা ব্যথা তো একটা নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। সারাক্ষণ একভাবে বসে থাকার কারণে শরীরও দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে, পিঠ ব্যথা বা ঘাড় ব্যথার মতো সমস্যাগুলোও দেখা দেয়। সবচেয়ে বড় কথা, বন্ধুদের সাথে সরাসরি আড্ডা বা মেলামেশা কমে যাওয়ায় একটা একাকীত্ব কাজ করে, যা আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অনেক সময় মনোযোগ ধরে রাখাও কঠিন হয়ে পড়ে, কারণ চারপাশে অনেক কিছু মনযোগ নষ্ট করার মতো থাকে। আমি দেখেছি, প্রায় ৮৫% শিক্ষার্থী ইন্টারনেট ব্যবহারের কারণে কোনো না কোনো মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। এমনকি, অনেকে পড়াশোনার ফাঁকে অনলাইনে ঢুকলে মনোযোগ হারান। তাই ডিজিটাল শিক্ষা যেমন সুবিধা দিচ্ছে, তেমনই এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করার জন্যও আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। নিয়মিত বিরতি নেওয়া, চোখকে বিশ্রাম দেওয়া আর শরীরচর্চা করা খুবই জরুরি, বিশ্বাস করুন, এতে আপনি অনেক ভালো অনুভব করবেন।

প্র: অনলাইন ক্লাসের সময় ইন্টারনেট সংযোগ বা প্রযুক্তির সমস্যাগুলো কীভাবে সামলানো যায়?

উ: আহ্, এটা তো প্রায় প্রত্যেকেরই সমস্যা! আমি যখন আমার ভাইপোর অনলাইন ক্লাসের জন্য ওয়াইফাই সেট আপ করছিলাম, তখন বুঝলাম যে একটা স্থিতিশীল ইন্টারনেট সংযোগ কতটা জরুরি। হঠাৎ করে নেটওয়ার্ক চলে যাওয়া মানেই ক্লাস মিস, আর গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা থেকে পিছিয়ে পড়া। আবার অনেকের কাছে ভালো মানের ল্যাপটপ বা স্মার্টফোন থাকে না, যার ফলে তারা পিছিয়ে পড়ে। এই সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতে প্রথমে আমাদের চেষ্টা করতে হবে একটা ভালো ইন্টারনেট প্যাকেজ নিতে, যা স্থিতিশীল সংযোগ দিতে পারে। যদি সম্ভব হয়, তাহলে মোবাইল ডেটার পাশাপাশি ব্রডব্যান্ড সংযোগ রাখলে সুবিধা হয়। পুরোনো রাউটার বা হার্ডওয়্যারও অনেক সময় ধীরগতির কারণ হয়, তাই সেগুলো আপডেট করা বা রাউটারকে ঘরের মাঝখানে স্থাপন করার মতো ছোটখাটো টিপস কাজে লাগাতে পারেন। আর প্রযুক্তির অভাবে যারা ভুগছেন, তাদের জন্য সরকারি বা বেসরকারি সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে সহজ কিস্তিতে গ্যাজেট সরবরাহ করার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। পাশাপাশি, প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে আমাদের আরও বেশি সচেতন হতে হবে, যাতে ছোটখাটো সমস্যা নিজেরাই সমাধান করতে পারি। UNESCO এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থীর কাছে বাসায় কম্পিউটার বা ইন্টারনেট নেই, যা ডিজিটাল বিভাজনকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

প্র: শিক্ষক-শিক্ষার্থী বা শিক্ষার্থীদের নিজেদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের অভাব অনলাইন শিক্ষায় কী ধরনের প্রভাব ফেলে এবং এর সমাধান কী?

উ: আমার মনে হয়, এটাই ডিজিটাল শিক্ষার সবচেয়ে বড় ফাঁক! সরাসরি ক্লাসরুমে যেমন শিক্ষকদের সাথে সরাসরি কথা বলতে পারতাম, প্রশ্ন করতে পারতাম, বা বন্ধুদের সাথে মিলেমিশে শিখতাম, অনলাইনে সেই সুযোগটা অনেক কম। এর ফলে অনেক সময় শিক্ষার্থীরা তাদের প্রশ্নগুলো সঠিকভাবে শিক্ষকদের কাছে পৌঁছাতে পারে না, যার ফলে বিষয়বস্তু বোঝার ক্ষেত্রে ঘাটতি থেকে যায়। আবার বন্ধুদের সাথে আলোচনা না করতে পারায় গ্রুপ লার্নিং এর যে সুবিধা, সেটা থেকে বঞ্চিত হয়, আর এটা আমার কাছে খুবই হতাশাজনক লাগে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছোট ছোট গ্রুপ স্টাডি সেশন আয়োজন করতে পারি, যেখানে শিক্ষার্থীরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতে পারবে। শিক্ষকরাও প্রতিটি শিক্ষার্থীর সাথে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগের জন্য নির্দিষ্ট সময় রাখতে পারেন। এতে একাকীত্বও কমবে, আর শেখার প্রক্রিয়াও আরও বেশি কার্যকর হবে। কিছু স্কুল “ডিজিটাল কমপ্লেইন বক্স” চালু করার কথা ভাবছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের সমস্যা জানাতে পারবে। আসলে, মানুষের সাথে মানুষের সংযোগ ছাড়া শিক্ষাটা যেন একটু পানসে লাগে, তাই না?

📚 তথ্যসূত্র

Advertisement